Saturday, 20 June 2020

করোনা আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন পাবনার কৃতী সন্তান কামাল লোহানী


নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন পাবনার কৃতী সন্তান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক কামাল লোহানী (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (২০ জুন) সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজধানীর মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধিন ছিলেন তিনি।
এর আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার বিকেলে কামাল লোহানীকে আইসিইউতে নেয়া হয়।
গত ১৭ জুন সকালে কামাল লোহানীকে রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তার ছেলে সাগর লোহানী জানিয়েছিলেন, তার বাবার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল।
দীর্ঘদিন থেকে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন কামাল লোহানী। গত মাসেও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।
কামাল লোহানীর জন্ম বৃহত্তর পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার সনতলা গ্রামে। বাবা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ মুসা খান লোহানী। মা রোকেয়া খান লোহানী।
সাংবাদিক কামাল লোহানী দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালে পাবনা চলে আসেন। ভর্তি হলেন পাবনা জিলা স্কুলে। ১৯৫২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন।
এরপর ভর্তি হন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে। এই কলেজ থেকেই উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। আর উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পরই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি টানেন তিনি।
কামাল লোহানী ‘দৈনিক আজাদ’, ‘দৈনিক সংবাদ’, ‘দৈনিক পূর্বদেশ’, ‘দৈনিক বার্তা’সহ বিভিন্ন পত্রিকার কর্মরত ছিলেন। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নে দুদফায় যুগ্ম-সম্পাদক এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হন।
তিনি গণশিল্পী সংস্থার সভাপতি ছিলেন। ১৯৬২ সালে স্বল্পকাল কারাবাসের পর কামাল লোহানী ‘ছায়ানট’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সাড়ে চার বছর এই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর মার্কসবাদী আদর্শে ১৯৬৭ সালে গড়ে তোলেন ‘ক্রান্তি’।
তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’র সভাপতি ছিলেন চার বছর (২০১২ ডিসেম্বর – ২০১৬ ডিসেম্বর)। বর্তমানে উদীচীর কেন্দ্রীয় কমিটির এক নাম্বার সদস্য।
পাবনার এই কৃতী সন্তান সাংবাদিকতায় ২০১৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন।