নিষ্প্রাণ ইট সুরকী সিমেন্টের ছাদের উপরের সবুজ সতেজ প্রাণের আধার ফলজ চারা গাছ মানুষকে আকৃষ্ট করে। বিভিন্ন জাতের ফল ফুল দেখে মানুষ কেবল মুগ্ধই হন না রুচিশীল এবং প্রকৃতই একজন কর্মঠ মানুষ সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ইকতেখারুল ইসলামের প্রশংসায় পঞ্চমুখও হন।
ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় এ কথার প্রমাণ মেলে এ ছাদ বাগানের গল্পে। বৃক্ষ প্রেমী সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ইকতেখারুল ইসলাম চাটমোহরে বদলী হয়ে আসার পর যখন ভাবতে থাকেন কোথায় বাগান করবেন এমন সময় এ ছাদ বাগানের চিন্তা তার মাথায় আসে।
মাত্র সাত-আট মাস বয়স এ ছাদ বাগানের। ইতিমধ্যে ব্যানানা ম্যাঙ্গো, আমেরিকান রেড পালমার, থাই কিউ জাই, থাই কার্টিমন, বারী-৪, বারী-১১, ব্রুনাই কিং আমের চারা, দার্জিলিং
কমলা, চায়না কমলা, বারি-১ মাল্টা, বারি-৭ পেয়ারা, এ্যাভোকোডা পেয়ারা, স্ট্রবেরী পেয়ারা, রাম ভুটান পেয়ারা, মিষ্টি জলপাই, থাই জাম্বুরা, জামরুল, শরিফা, ড্রাগন, আমড়া, আপেল, মিষ্টি কামরাঙা সব মিলিয়ে পঞ্চাশ টির মতো ফলদ গাছ লাগিয়েছেন তিনি এ ছাদ বাগানে।
ড্রামে লাগানো অনেক ফলজ গাছেই ফল ধরতে শুরু করেছে। এ ফলগুলো পরিবারের চাহিদা পূরণ করছে।পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া, প্রজাপতি, এ্যালমন্ডা, শিউলী, বেলী, রঙ্গন, ভারতীয় মাধবীলতা, দেশী জবা, চায়না জবা, স্থল পদ্ম, রাধাচূড়া, টগর, অপরাজিতাসহ বিভিন্ন ফুলের গাছ লাগিয়েছেন তিনি।
অফিসের পাশে লাগিয়েছেন ভিয়েতনামের নাড়িকেল চাড়া। অফিসের সম্মুখে পূর্ববর্তী এসি ল্যান্ড বর্তমান (ইউ.এন.ও) মো. মিজানুর রহমানের করে যাওয়া ফুল বাগানের শ্রী বৃদ্ধিসহ অনতিদূরে তিনি একটি লেবু বাগানও করেছেন।
এ লেবু বাগানে দেশী, চায়না থাইসহ বিভিন্ন জাতের লেবুর গাছ রয়েছে। এ ছাড়া বাসার ছাদেও অপর একটি বাগান করেছেন তিনি।
৩৩তম বি.সি.এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশিক্ষণ শেষে বান্দরবান ডিসি অফিসে যোগদান করেন তিনি।এর পর কিছু কাল এটু আই প্রকল্পে কাজ করার পর ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলায় যোগদান করেন।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যখন তাদের প্রচার প্রসারে গাছে গাছে বড় লোহার কাটা মেরে তাদের বিজ্ঞাপন বিলবোর্ড স্থাপন করেন তখন এ এসিল্যান্ড গাছ থেকে এসব লোহার কাটা তুলে গাছ গুলোকে লোহার কাটা মুক্ত করেন।
চাটমোহরের কোন এলাকায় গাছে লোহার কাটা দিয়ে সাইনবোর্ড সাটা হয়েছে এমন খবর পেলেই তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করার পাশাপাশি সেখানে ছুটে গিয়ে লোহার কাটা অপসারণ করেন। তার এ কর্মকান্ড সুধী মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
ছাদ বাগান প্রসঙ্গে ইকতেখারুল ইসলাম বলেন, এ ছাদ বাগানের গাছগুলোর বয়স মাত্র সাত-আট মাস। পরম মমতায় বাগানের
গাছগুলোর যত্ন করি। গাছের ফুল, ফল, সজীবতা, সৈন্দর্য আমায় মুগ্ধ করে। আমি ছাদটি সবুজ রাখার চেষ্টা করছি।
ছাদে উঠলে মন আপনা আপনি ভাল হয়ে যায়। ভূমি তো আর বাড়ছে না; অধিক সংখ্যক ছাদে এমন ফল বাগান করতে পারলে তা যেমন আমাদের পুষ্টির যোগান দিতে পারে তেমনি অর্থনৈতিক ভাবেও আমরা লাভবান হতে পারি।





